রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক আসামির স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান তা ফৌজদারি কার্যবিধির বিধি মোতাবেক রেকর্ড করার আবেদন করেন। অন্যদিকে স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার পৃথক আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য জানান।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।
ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।
ঘটনাস্থলে স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, তার স্বামী রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং গলাকেটে হত্যা করে। রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশে তার মাথা কাটে। এছাড়া যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এরপর জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা স্বীকার করে








